• বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, ফার্মগেট, ঢাকা – ১২১৫
  • info@barc.gov.bd
  • ০২-৯১৩৫৫৮৭

Online সার সুপারিশমালা

মাঠ পর্যায়ে ভেজাল সার সনাক্তকরণ পদ্ধতি

মাঠ পর্যায়ে ভেজাল সার সনাক্তকরণ পদ্ধতি আধুনিক কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থায় রাসায়নিক সার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ উপকরণ। বাংলাদেশে ষাটের দশকের শুরু থেকে রাসায়নিক সার ব্যবহৃত হয়ে আসছে। দেশে সারের ব্যবহার উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে এবংফসল উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি, জিপসাম, জিঙ্ক সালফেট, বরিক এসিড ইত্যাদি সার ছাড়াও দেশে বর্তমানে বিভিন্ন প্রকারের সার ও সার জাতীয় দ্রব্য ব্যবহৃত হচ্ছে। সারের সঠিক কার্যকারিতার জন্য এর গুণগত মান রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী। সারের গুণগত মান ঠিক না থাকলে ফসলের কাঙ্খিত ফলন পাওয়া যায় না। এতে কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি হয় এবং সার্বিকভাবে দেশের কৃষি উৎপাদন হ্রাস পায়। এছাড়া নি¤œ মানের তথা ভেজাল সার ব্যবহারে দীর্ঘ মেয়াদে জমির উর্বরতার উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এবং ভবিষ্যত কৃষি উৎপাদন হুমকির মুখে পড়তে পারে।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) এর গবেষণাগারে সার বিশ্লেষণের ফলফল পর্যালোচনায় দেখা যায় দেশে প্রচুর পরিমাণে ভেজাল সার বিপণন ও ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইউরিয়া এবং ডিএপি সারে তেমন একটা ভেজাল হয় না। তবে অন্যান্য সব সারেই কম বেশি ভেজাল পাওয়া যায়; বিশেষ করে মিশ্র সার, জৈব সার, জিঙ্ক সালফেট, বোরণ সার ও ম্যাগনেসিয়াম সালফেট সারে বেশি ভেজাল পাওয় যায়। গবেষণাগারে রাসায়নিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভেজাল সার সনাক্ত করা যায় এবং ভেজালের মাত্রাও জানা যায়। কিন্তু একজন কৃষকের পক্ষে সারের নমুনা গবেষণাগারে নিয়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ভেজাল সনাক্ত করা ব্যায়বহুল ও সময় সাপেক্ষ। বিষয়টি বিবেচনা করেমৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট দীর্ঘ দিনের গবেষণার মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে ভেজাল সার সনাক্তকরণের কতিপয় সহজ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছে। এসব পদ্ধতি ব্যবহার করে কৃষি সম্প্রসারণ কর্মী, সারের ডিলার, এনজিও কর্মী, এমনকি একজন কৃষকও সহজেই ভেজাল সার চিহ্নিত করতে পারে। এতে খুব সামান্য উপরকণ প্রয়োজন হয় এবং খরচও কম। এ সকল উপকরণ স্থানীয়ভাবেই পাওয়া যায়। তবে এ পদ্ধতিতে সার শুধুমাত্র ভেজাল কিনা বুঝা যায় কিন্তু ভেজালের মাত্রা নিরুপন করা যায় না। নি¤েœ মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন প্রকার ভেজাল সার সনাক্তকরণের কিছু সহজ পদ্ধতি বর্ণনা করা হলো:

ইউরিয়া

ইউরিয়া একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুল ব্যবহৃত নাইট্রোজেন সার। ইউরিয়া দেখেতে ধবধবে সাদা এবং এতে ৪৬% নাইট্রোজেন থাকে। ইউরিয়া সার সাধারনত ভেজাল হয় না।

এ সার পানিতে গুলিয়ে ভেজাল কিনা সহজে পরীক্ষা করা যায়। ১ চা চামচ (প্রায় ১ গ্রাম) ইউরিয়া সার ২ চামচ পরিমাণ পানিতে মিশালে তাৎক্ষণিকভাবে তা গলে সচ্ছ দ্রবণ তৈরী করবে। এ দ্রবণে হাত দিলে ঠান্ডা অনুভূত হবে। যদি ইউরিয়া সারে চুন মিশ্রিত থাকে তবে ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাস উৎপন্ন হবে ।

টিএসপি

টিএসপি বা ট্রিপল সুপার ফলফেট সর্বাধিক ব্যবহৃত ফসফেট সার।টিএসপি সারে ২০% ফসফরাস থাকে। এ সারের রং সাধারণত ধূসর থেকে গাঢ় ধূসর।প্রকৃত টিএসপি সার অম্ল স্বাদ ও ঝাঁঝলো গন্ধযুক্ত কিন্তু ভেজাল টিএসপি সারে অম্ল স্বাদ ও ঝাঁঝলো গন্ধ থাকে না। ভাল টিএসপি সারের দানাবেশ শক্ত। তাই টিএসপি দানাদুই বুড়ো আঙ্গুলের নখের মাঝে রেখে চাপ দিয়ে সহজে তা ভাঙ্গা যায় না কিন্তু ভেজাল টিএসপি অপেক্ষাকৃত নরম হওয়ায় চাপ দিলে সহজে ভেংগে যায়। ভাংগা দানার ভিতরের অংশ বিভিন্ন রং এর হতে পারে।

টিএসপি সার পানিতে গুলিয়ে পরীক্ষা করা যায়। এক চা চামচ ভাল টিএসপি সার আধা গ্লাস ঠান্ডা পানিতে মিশিয়ে চামচ দিয়ে নাড়াচাড়া করলে সার সম্পূর্ণরূপে গলে ডাবের পানির মত পরিস্কার দ্রবণ তৈরী হয়কিন্তু ভেজাল টিএসপি সার পানিতে মিশালে ঘোলা দ্রবণ তৈরী হয়।

ডিএপি সার

ডাই এ্যামোনিয়াম ফসফেট বা ডিএপি বহুল ব্যবহৃতএকটি রাসায়নিক সার এবং এর জনপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। টিএসপি সারের ন্যায় এ সারে২০% ফসফরাস থাকে। এছাড়া এতে ১৮% নাইট্রোজেন থাকে। ডিএপি সার অতি সহজেই পানিতে দ্রবনীয়। ডিএপি সার ঝাঁকালো গন্ধ ও অম্ল স্বাদযুক্ত এবং দানাদার প্রকৃতির। এ সারের রং সাধারণতগাঢ় ধূসর ও সাদাটে হয়ে থাকে। ডিএপি সারেও তেমন একটা ভেজাল হয় না। ১-২ চা চামচ পরিমাণ ডিএপি সারএকটিকাগজের উপর খোলা অবস্থায় ১-২ ঘন্টা রেখে দিলে যদি সারের নমুনাটি ভিজে না উঠে তবে ধরে নিতে হবে সারের নমুনাটি ভেজাল ডিএপি। ভাল ডিএপি সার বায়ুমন্ডল থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে কিছুক্ষণের মধ্যে ভিজে উঠে।

ডিএপি সার পানিতে গুলিয়েও পরীক্ষা করা যায়। এক চা চামচ ডিএপি সার আধাগ্লাস পানিতে মিশালে পানিতে গলে যাবে। ভেজাল ডিএপি সারে যদি গন্ধক মিশ্রিত থাকে তবে দ্রবণে ঘোলা তলানী পড়বে।

এমওপি

মিউরিয়েট অব পটাশ বা এমওপি বাংলাদেশে বহুল ব্যবহৃত সার। এ সারে ৫০% পটাসিয়ামথাকে। এ সারের রং সাধারণত সাদা থেকে হালকা বা গাঢ় লালচে রংয়ের হয়ে থাকে। এ সার ছোট থেকে মাঝারি আকারের স্ফটিকাকৃতির হয়ে থাকে। এমওপি সারের ঝাঁঝালো গন্ধ বা স্বাদ নেই। বর্ষাকালে এমওপি সার খোলা অবস্থায় রেখে দিলে বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করে ভিজে উঠে।

এ সার ভেজাল কিনা পানিতে গুলিয়ে পরীক্ষা করা যায়। এজন্য আধা চা চামচ এমওপি সার আধা গ্লাস পানিতে মিশাতে হবে। এমওপি সার ভাল হলে তা সম্পূর্ণরূপে গলে পরিস্কার দ্রবণ তৈরী করে। সারের নমুনায় কিছু অদ্রবনীয় বস্তু যেমন- বালু, কাঁচের গুড়া, মিহি সাদা পাথর, ইটের গুড়া ইত্যাদি ভেজাল থাকলে তা তলানী আকারে গ্লাসের নীচে জমা হবে। সারেলাল বা অন্য কোন রং মিশানো থাকলেসারের দ্রবনও একই রং ধারণ করবে এবং রং ভেসে উঠবে। এছাড়া দ্রবনে হাত ডুবালে হাতে রং লেগে যাবে। কিন্তু ভাল এমওপি সারের রং কখনো হাতে লাগবে না।

এসওপি

এসওপি সারে ৪২% পটাসিয়াম এবং ১৭% সালফার বিদ্যমান। এ সারের রং সাধারণত সাদা। এসওপি দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করলেও তেমন জমাট বাঁধে না। বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় এসওপি সারে ভেজাল দেয়া হয়ে থাকে। এ সারে সাধারনত নিম্ম মানের স্টার্চ, জিপসাম, চুন জাতীয় দ্রব্য বা অন্য কোন সাদা বস্তু মিশিয়ে ভেজাল দেয়া হয়।

১-২ চা চামচ এসওপি সার একটি কাঁচের পাত্রে রেখে কয়েক ফোটা পাতলা (১০%) হাইড্রোক্লোরিক এসিড মিশালে যদি বুদ বুদ ওঠে তবে ধরে নিতে হবে নমুনাটিতে চুন জাতীয় পদার্থ মিশিয়ে ভেজাল দেয়া হয়েছে এবং নমুনাটি ভেজাল এসওপি সার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

এনপিকেএস মিশ্র সার

ফসলে বিভিন্ন প্রকার সার সুষম মাত্রায় ব্যবহারের লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালে দেশে এনপিকেএস মিশ্র সারের প্রচলন করা হয়। ঐসময় বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক বিভিন্ন ফসলের জন্য ৬টি গ্রেডের এনপিকেএস মিশ্র সারের অনুমোদন দেয়া হয়। তবে বোরো ধানের জন্য অনুমোদিত ৮ : ২০ : ১৪ : ৫ এবং গমের জন্য অনুমোদিত ১২ : ১৫ : ২০ : ৬.৫ গ্রেডের মিশ্র সার দুটিই দেশে বেশি প্রচলিত। ইউরিয়া, ডিএপি/টিএসপি, এমওপি ও জিপসাম একত্রে মিশিয়ে এ সার বেসরকারি পর্যায়ে তৈরী ও বাজারজাত করা হয়ে থাকে।অধিকাংশ ক্ষেত্রে উৎপাদন খরচ কমানোর জন্য সারগুলি সঠিক অনুপাতে না মিশিয়ে কম দামের সার বেশি পরিমাণে এবং বেশি দামের সার কম পরিমাণে মিশিয়ে এ সার প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। এতে সারের গুণগত মান ঠিক থাকে না। এ ছাড়া এ সারের ভেজাল হিসেবে মাটি, ডলোমাইট ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

এনপিকেএস মিশ্র সারের ভেজালের মাত্রা ও প্রকৃতি বিভিন্ন রকমের হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে এ সারের ভেজাল সনাক্তকরণ একটু জটিল। তবে মাটি বা ডলোমাইট দিয়ে তৈরী করে কালো রং এর প্রলেপ দিয়ে ভেজাল এনপিকেএস মিশ্র সার তৈরী করা হয়ে থাকলে এ সারের দানা আংগুল দিয়ে চাপ দিলে অতিসহজেই গুড়া হয়ে যাবে। এ ছাড়া দানার ভিতর ও বাহিরের প্রলেপের রং আলাদা হবে।

জিপসাম

মাটিতে গন্ধক বা সালফার সরবরাহ করার জন্য জিপসাম সার ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ দেশের একমাত্র টিএসসি সার কারখানায় টিএসপিউৎপাদনের সময় উপজাত হিসেবে জিপসাম তৈরী হয়। এ সারে ন্যূনতম ১৬% সালফার এবং ২০% ক্যালশিয়াম বিদ্যমান থাকে। জিপসাম সারের বর্ণ ধূসর-সাদা গুড়া প্রকৃতির। ভাল জিপসাম সার আলোতে কিছুটা চিক চিক করে। জিপসাম সারের মূল্য কম হওয়ায় এ সারে সাধারণত ভেজাল পরিলক্ষিত হয় না। তবে এ সারটি বিভিন্ন সারে ভেজাল দেয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়। কখনো কখনো চুনের গুড়া ও মটির গুড়া মিশিয়ে জিপসাম সারে ভেজাল দেয়া হয়।

একটি কাঁচের বা চিনামাটির পাত্রে ১ চামচ পরিমাণ জিপসাম সারের উপর ১০-১৫ ফোটা পাতলা (১০%) হাইড্রোক্লোরিক এসিড আস্তে আস্তে মেশালে যদি বুদ বুদ দেখা দেয় তবে ধরে নেয়া যাবে যে জিপসাম সারের নমুনাটি ভেজাল।

দস্তা সার

বাংলাদেশে দস্তা বা জিংক সার হিসেবে জিংক সালফেট (মনোহাইড্রেট), জিংক সালফেট (হেপ্টাহাইড্রেট) ও চিলেটেড জিংক সার ব্যবহৃত হয়ে থাকে। জিংক সালফেট (মনোহাইড্রেট) সাদা ও দানাদার অকৃতির (সাগু দানার মত), তবে একবারে ধবধবে সাদা নয়। এ সারে ৩৬% দস্তা ও ১৭% সালফার থাকে। জিংক সালফেট (হেপ্টাহাইড্রেট) দেখতে চিনির দানার ন্যায় ও ঝুরঝুরে। এ সারে ২১% দস্তা ও ১০.৫% সালফার বিদ্যমান। চিলেটেড জিংক একটি উন্নত মানের জিংক ও জৈব লবণের যৌগ । এ সারে শুধুমাত্র ১০% দস্তা থাকে, অন্য কোন উপাদান যেমন- গন্ধক বা সালফার থাকে না। চিলেটেড জিংক সার সাদা ও পাউডার আকৃতির এবং সহজেই পানিতে দ্রবনীয়।

জিংক সালফেট (মনোহাইড্রেট): আধা গ্লাস পানিতে ১-২ চা চামচ জিংক সালফেট (মনোহাইড্রেট) দ্রবীভূত করলে সম্পূর্ণটা গলবেনা এবং দ্রবণ ঘোলাটে হবে।প্রাথমিকভাবে সমস্ত দ্রবণে পেজা তুলার মতো বস্তু ভাসতে থাকবে এবং পরবর্তীতে দ্রবণের উপরিভাগে একটি স্তর পড়বে। এ দ্রবণে সোডিয়াম বাই কার্বনেট (খাবার সোডা) মিশালে প্রথমে গাঢ় ঘোলাটে দ্রবণ তৈরী হবে। প্রকৃত জিংক সালফেট (মনোহাইড্রেট) এর ক্ষেত্রে গাঢ় ঘোলা দ্রবণটি ধীরে ধীরে গ্লাসের নীচ থেকে উপরের দিকে পরিষ্কার হতে থাকবে। আর যদি নমুনাটি ভেজাল জিংক সালফেট (মনোহাইড্রেট) হয় তাহলে কিছুক্ষণ পর গাঢ় ঘোলাটে দ্রবণটির উপরের অংশ ধীরে ধীরে পরিষ্কার হয়ে গ্লাসের নিচের দিকে নামতে থাকবে।

জিংক সালফেট (হেপ্টাহাইড্রেট): আধা গ্লাস ঠান্ডা পানিতে ১ চা চামচ জিংক সালফেট (হেপ্টাহাইড্রেট) দ্রবীভূত করলে সারের নমুনা সম্পূর্ণ গলে যাবে এবং পাত্রে কোনরূপ তলানী পড়বে না।

চিলেটেড জিংক: চিলেটেড জিংক সার দেখতে মিহি স্ফটিক আকৃতির সাদা অথবা হলদেটে পাউডারের ন্যায় এবং ওজনে খুবই হালকা।এক গ্লাস ঠান্ডা পানিতে আধা চা চামচ চিলেটেড জিংক মিশালে তাৎক্ষণিকভাবে গলে যাবে, ভেজাল চিলেটেড জিংক তাৎক্ষণিকভাবে গলবে না। এ সারে সালফার না থাকায় এক চিমটি বেরিয়াম ক্লোরাইড যোগ করলে দ্রবনটি ঘোলা হবে না এবং কোন তলানীও পড়বে না। কিন্তু এতে সালফার ভেজাল থাকলে এক চিমটি বেরিয়াম ক্লোরাইড যোগ করলে দ্রবনটি ঘোলা হবে এবং তলানী পড়বে।

বোরণ সার

বরিক এসিড, সলুবর, ফার্টিবোর, গ্রানুবোর ন্যাচার নামক সারগুলি সরকার অনুমোদিত বোরণ সার। বোরণ সার হিসেবে পুর্বে বোরাক্স অনুমোদিত হলেও সরকার কর্তৃক পরবর্তীতে তা বাতিল করা হয়েছে। বরিক এসিড সাদা রংএর ঝুরঝুরে পাউডার এবং এতে ১৭% বোরণ থাকে। সলুবর দেখতে ধবধবে সাদা, হালকা, মিহি পাউডারের ন্যায়এবং এতে ২০% বোরণ থাকে। ফার্টিবোর সাদা রং এর স্ফটিক আকৃতির এবং এতে ১৫% বোরণ থাকে। ঈষৎ গরম পানিতে ফার্টিবোর সম্পূর্ণ গলে যায়।গ্রানুবোর ন্যাচারে ১৪.৬% বোরণ থাকে।

বরিক এসিড: আধা গ্লাস পরিস্কার ঠান্ডা পানিতে ১ চা চামচ বরিক এসিড মিশাতে হবে।বরিক এসিড ভালহলে তা সম্পূর্ণ গলে যাবে এবং গ্লাসের তলায় কোন প্রকার তলানী পড়বে না। এর সাথে এক চিমটি বেরিয়াম ক্লোরাইড মিশালেও কোন তলানী পড়বে না। কিন্তু বরিক এসিড এর সাথে সোডিয়ামসালফেট ভেজাল থাকলে দ্রবণে বেরিয়াম ক্লোরাইড মিশানোর সাথে সাথে দ্রবণটি দুধের ন্যায় সাদা হয়ে যাবে এবং বেরিয়াম সালফেটের তলানী পড়বে ।

সলুবর: আধা গ্লাস পানিতে ১ চা চামচ পরিমাণ সলুবর দ্রবীভূত করে তাতে এক চিমটি বেরিয়াম ক্লোরাইড মিশাতে হবে। সলুবর নমুনাটি ভাল হলে দ্রবণে কোন তলানী পড়বেনা। কিন্তু সলুবর নমুনাটি যদি সোডিয়াম সালফেট দিয়ে ভেজাল হয় তবে বেরিয়াম ক্লোরাইড মিশানোর সাথে সাথে দ্রবণটি দুধের ন্যায় সাদা হয়ে যাবে এবং বেরিয়াম সালফেটের তলানী পড়বে।