• বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, ফার্মগেট, ঢাকা – ১২১৫
  • info@barc.gov.bd
  • ০২-৯১৩৫৫৮৭

Online সার সুপারিশমালা

সার ব্যবস্থাপনা

জমির উর্বরতার উপর সার ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। একটি লাভজনক ও টেকসই কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থা প্রবর্তনে সারের যথাযথ ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম। টেকসই কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। এতে বর্তমান ফসল উৎপাদনের সাথে সাথে ভবিষ্যতের ফসল উৎপাদনের বিষয়ও বিবেচনায় রাখতে হবে। ভবিষ্যৎ উৎপাদনের জন্য মাটির স্বাস্থ্য ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরী। আর মাটির স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে হলে একটি যথাযথ ও সমন্বিত সার ব্যবহার পরিকল্পনা করতে হবে এবং সে অনুযায়ী সার ব্যবহার করতে হবে।

পুর্বে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় “মৃত্তিকা জৈব পদার্থ” একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে থাকে। তাই সার ব্যবহার পরিকল্পনায় “মৃত্তিকা জৈব পদার্থ” রক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। বিষয়টির উপর পুর্বে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া জমির উর্বরতা রক্ষার জন্য ফসলের প্রয়োজন অনুসারে জৈব ও রাসায়নিক সারের সমন্বিত প্রয়োগ করতে হবে। ফসলের প্রয়োজন মাফিক রাসায়নিক সার অবশ্যই সুষম মাত্রায় ব্যবহার করতে হবে। উল্লেখ্য যে, সব ফসলের খাদ্য চাহিদা সমান নয়। সাধারনত ফসল গাছের আকার আকৃতি, ফলন ইত্যাদির উপর এর খাদ্য চাহিদা নির্ভর করে। ভুট্টা ও ডাল ফসলের খাদ্য চাহিদা এক নয়। ডাল ফসলের তুলনায় ভুট্টা গাছের আকার আকৃতি অনেক বড় এবং ফলনও অনেক বেশি বিধায় ডাল ফসলের তুলনায় ভুট্টার খাদ্য চাহিদা অনেক বেশি এবং সারও বেশি লাগে। এছাড়া বিভিন্ন ফসলের বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের চাহিদাও এক রকমের নয়। মাটির নিচের ফসল যেমন- আলু, মুলা, কচু, গাজর, ইত্যাদি ফসলের পটাসিয়ামের চাহিদা বেশি। তাই এসব ফসলে এমওপি সার বেশি লাগে। ডাল ফসলে ইউরিয়া সার কম লাগে। পুর্ববর্তী ফসলে ব্যবহৃত সারের পরিমাণের উপরও বর্তমান ফসলের সারের চাহিদা নির্ভর করে। যেসব ফসলে বেশি সার ব্যবহার করা হয় তাদের পরবর্তী ফসলে সাধারণত সার কম লাগে। আলুতে বেশি সার ব্যবহৃত হয় বিধায় এর পরবর্তী ফসলে সার কম লাগে। এছাড়া সেচযুক্ত ফসলে বিনা সেচের ফসলের তুলনায় সার বেশি লাগে। সারের মাত্রা ছাড়াও সার ব্যবহারের সময় আরও কিছু বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে।